বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং রাজনীতিবিদ সমান।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং রাজনীতিবিদ সমান।
মানে আমরা সবাই রাজনীতিবিদ। যা উন্নত বিশ্বে নজিরবিহীন।

পেশাজীবীরা তাঁদের পেশার স্বার্থে এবং নিজেদের কল্যাণে সংগঠন করবেন, যা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
আমাদের দেশে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, আমলা, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক—প্রত্যেক পেশাজীবীর পৃথক সংগঠন আছে। এ ধরনের সংগঠনগুলো সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক।
পেশার স্বার্থে পেশাজীবীরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করবেন। পেশার কল্যাণের জন্য কাজ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া পেশাজীবী সংগঠনগুলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা এবং জনগণের সেবার স্বার্থে গবেষণা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করে থাকে।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বকীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। প্রায় পেশাজীবী সংগঠন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হয়ে কাজ করছে। পেশার প্রতি বিশ্বস্ত ও নিষ্ঠাবান থাকছে না।

শিক্ষক রাজনীতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ৩টি দল আছে। সাদা, নীল এবং গোলাপী।
এই তিনটি দলই তিন ধরণের রাজনীতির প্রতি অনুগত। সাদা দলের ব্যানারে যেসব শিক্ষক রয়েছেন তারা বিএনপি পন্থী, নীল দল আওয়ামী পন্থী এবং গোলাপী দল বামপন্থী হিসেবেই পরিচিত।

চিকিৎসক রাজনীতি
দেশের চিকিৎসক সমাজেও স্পষ্টত তিন থেকে চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংগঠন স্বাচিপভূক্ত। কেউ বিএনপি সমর্থিত ড্যাবের সদস্য। আবার কেউ-কেউ বাম বা জামাত সমর্থন সংগঠন পন্থী।

প্রকৌশলী রাজনীতি
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলী প্যানেল ইত্যাদি।

আইনজীবীদের রাজনীতি
দেশের আদালত এলাকায় আইনজীবীদের প্রায় দুই ডজন সংগঠন রয়েছে।
সরকার সমর্থিত সংগঠনগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি, জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন, হিন্দু আইনজীবী পরিষদ ইত্যাদি।
সরকারবিরোধী সংগঠন হচ্ছে- জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ইসলামিক ল'ইয়ার্স ফোরাম ও ইনডিপেনডেন্ট ল'ইয়ার্স ফোরাম।

সাংবাদিক রাজনীতিঃ
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর রয়েছে ২টি করে অংশ। একটি আওয়ামীলীগ পন্থী এবং অপরটি বিএনপি পন্থী৷ এছাড়াও আওয়ামীলীগ এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের রয়েছে অসংখ্য সাংবাদিক সংগঠন।


এছাড়াও ব্যাবসায়ীরা, সরকারি কর্মকর্তা / কর্মচারী, শ্রমিক সহ জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবধারা অনুযায়ী সকল পেশার মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এমনও কেউ কেউ আছেন, যারা রাজনীতি আর রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি এতটাই মোহবিষ্ট থাকেন যে, তারা নিজেদের মধ্যে হানাহানি মারামারি করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

পেশাজীবীদের রাজনীতি করার অধিকার কতটুকু আছে, সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ আছে কিনা,কতটা আছে, সেই নৈতিকতা বা বিবেচনাবোধ সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে৷ বাংলাদেশের পেশাজীবীরাও দলীয় রাজনীতির সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে গেছেন৷ এর ফলে পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা বা অন্যায্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে না৷ পেশাজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন,অপমানিত-অসম্মানিত হচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের সংগঠন নীরব থাকছে৷

সব ক্ষেত্রে নিজেদের এমন বিভক্তি একটি জাতীকে কখনো এগিয়ে নিতে পারে না।
তাই এখনি সময় ভেবে দেখার। এখনি সময় একটি জাতীগত ঐক্যের।
পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলারও উচিৎ তাদের সিন্ডিকেট থেকে পেশাজীবী এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দূরে রাখা।



চলবে>>>