প্রতিযোগীতামূলক অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যাবস্থা এবং আমাদের পথ চলা।
ক্রমবর্ধমান গতিশীল এই প্রতিযোগীতামূলক অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে পথ চলতে চাই আমরা সবাই। আমরা প্রত্যেকেই আগামী দিনের একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি দক্ষতা, যোগ্যতা আর সততায় পরিপূর্ণ সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মাণের। এ ক্ষেত্রে একটি সফল জীবন এবং সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য এর কারিগরদের প্রয়োজন সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা আর ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনের।
কিন্তু সঠিক পথ ও নির্দেশনার অভাবে আমাদের সে স্বপ্ন মাঝপথে গিয়েই হোচট খেয়ে যায়, তা আর আলোর মুখ দেখে না।মনে রাখতে হবে যোগ্যতার বিকল্প কেবলমাত্র যোগ্যতাই হতে পারে। কঠিন বাস্তবতা হলো যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি পরিবার, সমাজ ও দেশের সম্পদ আর অযোগ্য অদক্ষ জনশক্তি হলো দেশের বোঝা। আর এই তীব্র প্রতিযোগিতামুখর পৃথিবীতে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরির জন্য প্রশাসনিক ও পেশাগত নেতৃত্ব করায়ত্ত করার জন্য দক্ষতা আর ঈর্ষনীয় ক্যারিয়ার গঠনে সকলের প্রত্যয়দীপ্ত হওয়া উচিত।

আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের প্রায় সবারই কমবেশী ধারনা আছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থায় পাস করাটাই যেন মুখ্য আর বাস্তবায়িক জ্ঞাণার্জন করাটা নিতান্তই যেন বোকামির একটি কাজ। সত্যি এক অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যর্থতা এখানেই যে,স্বাধীনতার ৪৫ বৎসর পরেও আমরা একটি দক্ষ, নৈতিকতা সম্পন্ন, দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ এবং প্রতিশ্রুতিশীল উন্নয়ন বান্ধব জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারিনি। শুধুমাত্র আমাদের শিক্ষার গঠনমূলক ও বাস্তবিক প্রয়োগ না করার কারনে। আমরা দেখতে পাই আমাদের অভিভাবকরা ছেলে মেয়ে ভুমিষ্ঠ হওয়ার পরই তার সন্তানকে ডাক্তার না ইন্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলবেন, এ নিয়ে কথার প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন। আমার কথা হলো,আপনি আগে দেখুন,আপনার সন্তান কিসে ভালো, কোন বিষয়ে তার আগ্রহ বেশী। তারপর তার স্বপ্নটা তাকেই দেখতে দিন। বাস্তবায়নের পথে বাধা না হয়ে সঙ্গী হিসেবেই সঙ্গ দিন। ভুলেও আপনার স্বপ্নের বলির পাঠা হিসেবে আপনার সন্তানকে গড়ে তুলবেন না। এতে হিতে বিপরীত হয়।আমরা দেখি, যে যে বিষয়ে পড়তেছি,তা সংশ্লিষ্ট চাকরী আমরা অধিকাংশই পাই না। ভাল রেজাল্টই কখনো শুধু শিক্ষা ও একটি ভাল ক্যারিয়ারের মাপকাঠি হতে পারে না। প্র্যাকটিকাল ধ্যান ধারনা ও তার প্রয়োগই বাস্তবে কাজে লাগে এবং ক্যারিয়ার গঠনে এর প্রভাবই অপরিসীম। আমরা দেখে আসতেছি সবসময় চাকরী করতে গেলে আপনার পুথিগত বিদ্যা আপনার কাজে আসে না।তাই আমার পরামর্শ হলো, রেজাল্টের জন্য নয়, অবশ্যই জানার জন্যই আমাদের জ্ঞাণার্জন করা উচিত। যা বাস্তব জীবনে আমাদের সত্যিই উপকারে দিবে।

আমরা কে কোন বিষয় বা কোন বিভাগ নিয়ে পড়ব। এই দিধা দন্ধ জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই আমাদের মধ্যেই কাজ করে।অমুকে সাইন্স নিয়ে পড়তেছে,তাহলে তো আমাকেও ঐটাই নিতে হবে, না হলেতো স্ট্যাটাস থাকেনা। আসলে এই কমন কিছু ব্যাপারই আমাদের চলার পথে বাধা তৈরী করে দিতে পারে। এই ধারনাগুলোই অমুলক।আপনি যে বিষয়ে নিজেকে ভাল মনে করেন,আপনি তাই নেন। অন্যকে অনুসরন করেন, অনুকরন কখনোই করবেন না। এ যুগ ডিজিটাল ভিশনে এগুচ্ছে। আপনি কারিগরী শিক্ষার প্রতি জোর দিতেই পারেন। কারন এই শিক্ষাই আপনার ক্যারিয়ারে সাফল্য আনয়ন করে দিত পারে। সেইসব বিষয়ই আপনি বাছাই করুন, যেসব বিষয়ে এদেশের চাকরির বাজারে অগ্রাধিকার আছে এবং আপনি যদি উদ্যোক্তাও হন, যাতে এইসব বিষয় কাজে লাগাতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞান এই ক্ষেত্রে আপনার অনেক বড় সহায়ক হতে পারে।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভাল কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলেই আমরা হতাশ হয়ে পড়ি।হতাশাই আপনার সফলতার পথে প্রধান অন্তরায়। এটা মনে রাখবেন।আমাদের দেশে তো অনেক ভাল ভাল বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আপনি কি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন, এখান থেকে পড়ালেখা শেষ করে যারা বেরিয়েছে,তারা সবাই সফল। আসলে বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলছে।আমাদের দেশের জনসংখ্যা মাত্রাধিক। এর মধ্যে যারা বেকার আছে, তাদের বয়স পনের থেকে তিরিশ বছরের মাঝামাঝি এবং অধিকাংশই তারা শিক্ষিত বেকার। তাই আপনি শুরুতেই হতাশাগ্রস্থ হবেন না। যে প্রতিষ্ঠান ও বিষয়েই আপনি পড়বেন, তাতেই নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করুন। সফলতা আসবেই একদিন ইন-শা-আল্লাহ। গ্র্যাজুয়েশনের পর নিজের জ্ঞাণকে ক্যারিয়ার গঠনে কাজে লাগান। বাস্তবিক প্রয়োগমূলক জ্ঞান অবশ্যই আপনার ক্যারিয়ারে কাজে লাগবে। আপনি আপনার জ্ঞাণকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তাও হতে পারেন। আপনি নিজে কর্মসংস্হানের পিছনে না ছুটে আপনার সততা, সাহস আর জ্ঞাণকে পুজি করে উদ্যোক্তা হয়ে অপরের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী একটি সাহসী সিদ্বান্ত। নিজেকে কখনোই হেয় মনে করবেন না। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোন ভাল কিছু করে দেখানোর ইচ্ছা ও স্বপ্ন থাকে। তাই বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করুন।

আমাদের এই যুগ প্রযুক্তির যুগ। আপনি আপনার হাতে থাকা ঐ মুঠোফোনটার মাধ্যমেই সারা দুনিয়ায় বিচরণ করতে পারছেন, জ্ঞাণ বিজ্ঞানের সকল তথ্যই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার মুঠোয় এখন। আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞাণার্জন আমাদের এই যুগে ক্যারিয়ার গঠনে হতে পারে একটি সময়োপযোগী সিদ্বান্ত।ইচ্ছে করলেই খুব সহজেই আপনি এর বাস্তবিক প্রয়োগ দেখাতে পারবেন।তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। এসকল ক্ষেত্রে সরকারী বেসরকারী নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।তথ্যপযুক্তি বিষয়ক পড়ালেখা আপনার ক্যারিয়ারের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভুমিকাটাই রাখতে পারে। আপনার এ শুরু হতে পারে আজই। দেশের বিভিন্ন শহরে এখন অনেক ভাল ভাল আইটি ইন্স্টিটিউট আছে। আপনি সেখান থেকে সফ্টওয়ার, হার্ডওয়ার, ওয়েব বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। পড়ালেখার পাশাপাশি বসে না থেকে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।

পরিশেষে আপনার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ, নিজেকে স্থবির করে রাখবেন না। আমাদের জীবনটা গতিশীল। আজই উঠে দাড়ান। আপনার ভিতরে লুকিয়ে থাকা স্বতঃসফুর্ততাকে বের করে নিয়ে আসুন। যা আজ করতে চান তা আজকেই করুন।কালকের জন্য বসে থাকবেন না। এটা আপনারই জীবন। আপনিই পারেন আপনার জীবনের গতিপথটা বদলে দিতে। সবার প্রতি আমার শুভকামনা রইল, ধন্যবাদ।। - মাহমুদুল হাসান সাগর